বাবর আলীর আঠাশ ঘন্টা অনশন এবং--মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বাবু এর ব্লগ--আপন ভূবন ব্লগ - আপন প্রতিভার সন্ধানে 



প্রথম পাতা » মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বাবু এর ব্লগ » বাবর আলীর আঠাশ ঘন্টা অনশন এবং

বাবর আলীর আঠাশ ঘন্টা অনশন এবং

লিখেছেন : মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বাবু       ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:০৪


০টি মন্তব্য   ১৪০ বার পড়া হয়েছে



বাবর আলী গিয়েছিলো সিঙ্গাপুর জেনারেল
হাসপাতাল, ঘন্টা খানেক লেগেছে খুঁজে পেতে নির্দিষ্ট বল্ক,লেভেল আর রিসিপশন।হিসেব করে দেখল, অনুমেয় সম্ভ্যাব্য খরচ যা, তা'হাজার ডলারের উপর।সাধ্য নেই তার।টেক্সি নিয়ে চলে এলো দুই বছর পুর্বের ফার্মেসী টাইপ ক্লিনিকে।

ঘড়ির কাঁটায় তখন এগারটা।রিসিপশন জানালো একটায় আসো।খবরদার, কিছু খাবেনা,পানি ছাড়া।রক্ত আর ইউরিন পরীক্ষা হবে। তবে এখানে নয় বাইরে থেকে ঘুরে এসো।বাইরে এলো।দুই ঘন্টা,কি করা যায়।সুর্য্য তখন ফুল মুডে।একটা সাইকেল মোবাইল স্ক্যানে খুলে চলে গেলো মোস্তফায়।পর পর দুইটা ডাবের পানি।সাড়ে ছয় ডলার। ফিরলো ক্লিনিকে। দুপুর একটায়।

১৬ ঘন্টা উপোস থাকা শরীর।ডাক্তার বললেন, ভালো হয়েছে।রিপোর্ট ভালো হবে কারণ আট, দশ ঘন্টা সলিড খাবার না খাওয়াই ভালো এই টেষ্টের জন্য।আসার সময় জেনে নিলো আবার যেতে হবে পাঁচ দিন পর।কাজের সাইটে যখন আসে ঘড়ির কাঁটা বিকাল সাড়ে চারটা।

প্রয়োজনী লেখালেখি সেরে যখন সাইট থেকে বের হবে,তখন,সন্ধ্য সাড়ে সাত টা।অজানা একটা কল এলো।মিষ্টি সুরেলা কন্ঠের কথার সারর্মম এই, বাবর আলীকে আবার যেতে হবে একই টেষ্টের জন্য।সকাল সাড়ে আট টা থেকে ন'টা।কিন্তু ন'টায় একটা, আর দশটায় আরেকটা মিটিং।দুটোই গুরত্ব পূর্ণ।অনেক উপরস্থ আসবেন,সেই সাথে আর্কিটেক্ট, কিউপি,কিএস। বাবর আলী না থাকলে চলবে না।ও দিকে সুরেলা কন্ঠে অদেখা নারী জানালেন,
নো ওয়ে।তাকে যেতেই হবে।
বাবর আলী বলল, ভোরে করলে হয় না।
তিনি জানালেন সাড়ে আট টা আমার ডিউটি টাইম স্যার।
বাবর আলী বলল সরি,
থাক তাহলে,চিকিৎসাই করাবে না।কারণ এমনিতেই কোম্পানীর সাথে ভালো সময় যাচ্ছেনা।মিটিং এ না থাকলে চাকরীটাই থাকবেনা।এই মুহুর্তে চাকরীটার বেশী প্রয়োজন।বাবর আলীর জীবনটা এমন এক জায়গায় এখন, যতক্ষণ প্রাণ আছে ততক্ষন টেনশন।এতো দায়িত্ব আর কর্তব্য, মানবতা তো এক রোগ। যা কষ্টের জমিনে যেন সার দেয়া।আগুনে হাওয়া দেয়া।

সেই যাই হোক,কিচ্ছুক্ষন পর আবার সেই সুরেলা কন্ঠ,হ্যালো স্যার,ওকে আই উইল ওপেন আর্লি।এইট ও কলক সার্প, ইউ কাম।ফার্স্ট আই উইল টেক ইউর ব্লাড এন্ড ইউরিন।আই কালেক্ট ইট ফার্স্ট।
রিপ্লাইতে বাবর আলী জানালো, ওকে আই উইল মেসেজ ইউ সেভেন থার্টি এম,
ওপার থেকে রিপ্লাই,অকে,সিউর।বাট ডোন্ট ইট টুয়েলভ আওয়ারস,ড্রিংক, ক্যান।

রাতে কি আর ঘুম হয় বাবরের,ভাবনা গুলি মাথায় কিল বিল করে।
ওরা কি রক্ত আর ইউরিন হারিয়ে ফেলেছে,নাকি মিক্স হয়ে গেছে দেশের মতো!নাকি কোন কঠিন কোন অসুখ?তারা কনফার্ম করতে চাচ্ছে।

ভোরে বের হলো,তখনো সোডিয়ামের লাইট জ্বলছে। বাংলা মার্কেটে ডাকছে কয়েকটা কাক।সকাল সাড়ে ছ'টায় পৌছে গেলো বুংকিং এম আর টির অপজিটের ফ্যামিলি ক্লিনিকে।

সময় আর যায় না।অপেক্ষা,রক্ত দেবার।
ম্যাসেজ এলো ইউ ক্যান গো ইন্সাইড।ওয়েট দেয়ার।বাবর আলী ভালো করে দেখলো, কাঁচের ওপারে শাটার ডাউন,ছোট কাঁচের দরজায় হাত দিতেই খুলে গেলো, শাটার এ হাত দিয়ে হালকা ঝাকুনি দিতেই শাটার তুললেন ষাট উর্ধো এক নানী।বাবর জানালো, তার এখন আসার কথা,জবাব,দিলেন,এইট থার্টি অনলি।

এর মাঝে প্রাকৃতিক ডাক এলো। পুরাই মাথা নষ্ট।যেন টিকে থাকা দায়।মনে পড়লো বাবর আআলীর পাশেই সিং পাঞ্জাবী দের একটি টেম্পল আছে।কিন্তু যায় কি করে?কে কি বলে।পুরো টেম্পল এক চক্কর দিলো বাইরে থেকে।চোখে পড়ল এক পাশ দিয়ে হাটার সময়,লেখা আছে, ম্যান,ওমেন,আর আছে হ্যান্ডিক্রাফট এর সিম্বল।চোখ এ দিক ও দিক রেখে ছোট গেটের কাছে জুতার বাক্সে রাখলো তার কেডস নামের পাদুকা জোড়া। টয়লেটে গিয়ে প্রায় যে সমস্যায় পড়ে তা হলো, ব্যাক ওয়াসের হোস পাইপ না থাকা।অগত্যা টিস্যু দিয়ে পরিশোধনের কাজ সেরে আবার অপেক্ষা করছিলো বারান্দার চেয়ারে বসে।ঘড়ির কাঁটায় দেখলো সকাল আট টা।

হ্যায়,ইউ বাবর আলী,
ইয়েস।
একচুয়েলী মাই কার ব্রেক ডাউন স্যার।আই ম্যাসেজ ইউ,সরি আই এম রিয়েলী সরি।
বাবর বলল, ইটস ওকে।ইউ আর অন ইউর টাইম।
বন্ধ সাটার খুলে ভিতরে নিয়ে গেলো। সেই নানী বিরক্ত নিয়ে তাকালেন বাবর আলীর দিকে। ড্রয়ার থেকে বের করলেন কিছু কাগজ।বাবর চলল,পিছু পিছু।আরেকটি দরজা খুলতেই কমপক্ষে পঞ্চাশ জন ফিলিপিনো ইন্দোনেশিয়ান মেয়েদের লম্বা কিউ।বাবর লাইন দেখে থমকে দাঁড়ায়।চোখের আড়াল হয়ে গেলো সে মেয়েটি।কয়েক সেকেন্ডেই মেয়েটি এসে বলল,
কাম,হেয়ার,বাবর আলী,কাম হেয়ার।
মুহুর্তেই টেনে নিলো তিন সিরিঞ্জ লালচে কালো রক্ত। বাবর ভাবে আজকাল মনে হয় মনের মাঝে কালি,তাই হয়তো লালচে না থেকে,রক্ত কালচে হয়ে যাচ্ছে।হাতে ধরিয়ে দিলো একটা ছোট্ট কৌটা।বলল নিয়ে এসো। ওই তো ও দিকে টয়লেট।

ফিরে এসে বলল,আর কিছু করতে হবে,জবাব,
নো, ফিনিশ রেডি।নেক্সটাইম সি ইউর ডক্টর অন ইউর এপোয়েন্টমেন্ট।

বাইরে এসে দেখল,ঘড়ির কাঁটায় তখন সকাল আট টা সতের মিনিট।কোন টেক্সির লক্ষন নেই।মোবাইল অপশনে গিয়ে চড়ল,সরকারী এম বাইক লাল রঙের সাইকেলে।অনুমান করে বুংকিং থেকে কোন এক রোডে ঢুকল।চোখে পড়লো এম আর টি, তার মানে ওই দিকে কালাং।সাইটে যখন পৌছায় তখন সকাল আট টা সাতান্ন মিনিট।অফিসের কোর্ডিনের এসে গেছে।ক্ষুদায় প্রাণ যায়।প্যাকেট থেকে দুটি সিদ্ধ আটার রুটির মাঝখানে ভাজি দেয়া নাস্তা রোল করে খেয়ে নিলো,যেখানে সিলিং আর ফ্লোরিং এর কাজ চলছিল পাউডারুমে দাঁড়িয়েই খেলো।

বাইরে আসলোমেইন গেটে।পর পর কয়েকটা গাড়িতে এলেন,মিটিং এ অংশ কারী গন।মনে পড়লো আরে কিছু একটা ধৌত করা রয়ে গেছে।কিন্তু এ দিকে মিটিং শুরু। যাক,এখন আর সমস্যা নেই।আগে পরিস্কার হওয়া যাক।কারন পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা ইমানের অঙ্গ।
বোতলে পানি নিয়ে পোর্টেবল টয়লেটের দিকে ছুটলো বাবর আলী।
মিটিং থেকে ডাক পড়লো, ক্যান ইউ কাম হেয়ার উইথ স্ট্রাকচারাল ড্রইং,বেজে উঠলো মোবাইল, স্ক্রীনে ভেসে উঠলো, বিগ বসের নাম্বার।সব ছেড়ে ফোন রিসিভ করলো, সাপ্তাহ দুয়েক পূর্বে বসের সাথে বেশ হয়েছে তার।জবাব দিয়েছিলো যথাযথ।প্রতিবাদ করেছিলো অন্যায়ের।
ফোন রিসিভ করতেই, বস জানতে চাইলো, বাবর আলী, হোয়াট ইজ গোয়িং অন।

সিঙ্গাপুর
২৪-২-২০১৮ ইং




মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বাবু,সিঙ্গাপুর
ব্লগ লিখছেন ২ বছর ২ মাস ১৮ দিন, মোট পোষ্ট ৯৩টি, মন্তব্য করেছেন ০টি,          



এই ধরনের আরো কিছু পোস্ট.


বাবর আলী, মুখোশের আড়ালে মুখোশ!

ইলিশ গুঁড়ি সন্ধ্যায় কফির চুমুক

কবি বেঁচে থাকে কবিতার মাঝেই

বাঁচাও,বাঁচাও,বাঁচাও

ইচ্ছে হয়
 

মন্তব্য সমূহঃ

মন্তব্য করতে লগিন করুন।

ইমেইল: পাসওয়ার্ড: রেজিস্ট্রেশন করুন