সিলেটে ১৯ বছর ধরে অকার্যকর ট্রাফিক সিগন্যাল বাতি: বাজেটে বরাদ্ধ থাকলেও সংস্কার নেই --এমরান আহমদ এর ব্লগ--আপন ভূবন ব্লগ - আপন প্রতিভার সন্ধানে 



প্রথম পাতা » এমরান আহমদ এর ব্লগ » সিলেটে ১৯ বছর ধরে অকার্যকর ট্রাফিক সিগন্যাল বাতি: বাজেটে বরাদ্ধ থাকলেও সংস্কার নেই

সিলেটে ১৯ বছর ধরে অকার্যকর ট্রাফিক সিগন্যাল বাতি: বাজেটে বরাদ্ধ থাকলেও সংস্কার নেই

লিখেছেন : এমরান আহমদ       ১৫ অক্টোবর ২০১৫ রাত ৮:৩১


২টি মন্তব্য   ৪১২ বার পড়া হয়েছে


সিলেট নগরীর ট্রাফিক নিয়ন্ত্রনে ও যানজট নিরসনে ১৯ বছর আগে নগরীর বিভিন্ন মোড়ে স্থাপন করা হয়েছিলো ট্রাফিক সিগন্যাল বাতি। তবে স্থাপনের পর থেকে আজ পর্যন্ত একদিনও কাজে লাগেনি এই বাতিগুলো। একদিনের জন্যও জ্বলেনি কোনো বাতি।
এরপর থেকে কয়েক বছরে সিটি করপোরেশনের বাজেটে সিগন্যাল বাতি সংস্কারের জন্য ৫ কোটি টাকা বরাদ্ধ রাখা হলেও এ পর্যন্ত তা সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে এখনো হাতের ইশারায় নগরীতে চলাচলকারী যানবাহন নিয়ন্ত্রন করতে হচ্ছে ট্রাফিক পুলিশকে। এতে করে দিনদিন অসহনীয় হয়ে উঠছে নগরীর যানজট।
সিলেট সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৬ সালে ‘মাঝারি শহর উন্নয়ন প্রকল্পের’ আওতায় যানবাহন নিয়ন্ত্রণের জন্য নগরীর ৬ টি ব্যস্ততম পয়েন্টে স্থাপন করা হয় ট্রাফিক সিগন্যাল বাতি। ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে নগরীর চৌহাট্টা, রিকাবীবাজার, নয়াসড়ক, সুরমা মার্কেট, নাইওরপুল ও আম্বরখানা পয়েন্টে সিগন্যাল বাতি লাগানো হয়।
স্থাপনের পর একদিনের জন্যও জ্বলেনি এসব সিগন্যাল বাতি। সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা জানান, তৎকালীন সময়ে ট্রাফিক পুলিশের আপত্তি ও যান্ত্রিক ক্রটির কারনে সিগন্যাল বাতি কার্যকর করা যায়নি। পরবর্তীতে এগুলো সংস্কারের জন্য বাজেটে আলাদা খাত রাখা হলেও বরাদ্ধ না পাওয়ায় সংস্কার করা হয়নি।
সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন বছরের বাজেট পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ট্রাফিক সিগন্যাল বাতি সংস্কার ও উন্নয়নের জন্য ২০০৭-০৮ অর্থ বছরের বাজেটে ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা, ২০০৯-১০, ২০১০-১১, ২০১১-১২, ২০১২-১৩ অর্থ বছরের বাজেটে ৫০ লাখ টাকা ও ২০১৩-১৪ অর্থ বছরে ৫০ লাখ টাকা করে বরাদ্ধ রাখা হয়। ছয় বছরে বাজেটে ৫ কোটি বাদ্ধ রাখা হলেও ট্রাফিক সিগন্যাল বাতিগুলোর কোনো সংস্কারই করা হয়নি। নেওয়া হয়নি এগুলো সচল করারও কোনো উদ্যোগ।
সরেজমিনে নগরীর ট্রাফিক সিগন্যাল বাতি লাগানো ৬ টি পয়েন্ট ঘুরে দেখা যায়, রক্ষনাবেক্ষনের অভাবে ট্রাফিক সিগন্যাল বাতির খুঁটিগুলোর একেবারেই জীর্ণ দশা। জং আর শ্যাওলা জমেটে পুরো খুঁটিজুড়ে। তবু এগুলো এখনো দন্ডায়মান হয়ে আছে। তবে চুরি হয়ে গেছে লাল, সবুজ, হলুদ বাতিগুলো।
সিগন্যাল বাতি না থাকায় এখনো নগরীতে হাতের ইশরায়ই যানবাহন নিয়ন্ত্রন করতে হচ্ছে ট্রাফিক পুলিশকে। পুলিশের লোকবল সঙ্কট ও ক্রমবর্ধমান যানবানের কারনে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রনে হিমশিম খেতে হচ্ছে পুলিশকে। ফলে পুরো দিনভরই নগরীর বিভিন্ন মোড়ে লেগে থাকছে অসহনীয় যানজট। দীর্ঘ যানজটে স্থবির হয়ে পড়ছে জনজীবন। যানজট নিরসনে সিগন্যাল বাতি কার্যকর ও ট্রাফিক পুলিশের আধুনিকায়নের দাবি জানিয়েছেন নগরবাসী।
এ ব্যাপারে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সিলেটের আহ্বায়ক ফারুক মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এই সিগন্যাল বাতিগুলো হচ্ছে রাষ্ট্রিয় অর্থ অপচয়ের একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ। বাতিগুলো যদি কাজে না লাগানো হবে তবে এতো টাকা খরচ করে লাগানো হলো কেন? তিনি বলেন, নগরীর যানজট ও যানবাহন নিয়ন্ত্রনের জন্য নগরীর প্রতিটি মোড়ে সিগন্যাল বাতি লাগানো ও ট্রাফিক পুলিশের আধুনিকায়ন করা প্রয়োজন।
এ ব্যাপারে সিলেট মহানগর পুলিশের উপ কমিশনার (ট্রাফিক) মুশফেকুর রহমান বলেন, সিগন্যাল বাতিগুলো চালু হলে আমাদের কাজ অনেক সহজ হতো। যানজটও অনেকোংশে কমে আসতো।
তিনি বলেন, সব নগরীতেই সিটি করপোরেশন সিগন্যাল বাতিগুলো সংস্কার ও রক্ষনাবেক্ষন করে। কিন্তু সিলেটে কেনো করা হচ্ছে না তা বুঝতে পারছি না।
এ ব্যাপারে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নুর আজিজুর রহমান বলেন, প্রথমদিকে ট্রাফিক পুলিশের আপত্তি, অর্থাভাব ও যান্ত্রিক ত্রুটির কারনে সিগন্যাল বাতিগুলো চালু করা যায়নি। পরবর্তীতে কয়েকটি বাজেটে এগুলো সংস্কারের জন্য আলাদা খাত রাখা হলেও বরাদ্ধ না পাওয়ায় সংস্কার করা সম্ভব হয়নি।
তিনি বলেন, বাজেট ঘোষণার সময় আমরা অনেকগুলো খাতই সংযুক্ত করি। কিন্তু তা বাস্তবায়নের জন্য সরকারী বরাদ্ধের উপর নির্ভর থাকতে হয়। সরকার থেকে বরাদ্ধ না পেলে এই কাজগুলো করা হয়না। যে কাজগুলো করা সম্ভব হয় না বছর শেষে সংশোধিত বাজেটে সে খাতগুলো কেটে ফেলা হয়।
নুর আজিজুর রহমান বলেন, এখন নগরীর যে অবস্থা তাতে কেবল সিগন্যাল বাতি দিয়ে যানজট ও যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে না। যেমনটি সম্ভব হচ্ছে না ঢাকা শহরে। তাই এ ব্যাপারে আমরা নতুন চিন্তা করছি। একটি পরিকল্পনা গ্রহণের ব্যাপারে আলোচনা চলছে।




বিশ্বাস... সে এক অভিশাপ ও মনের যন্ত্রনা
ব্লগ লিখছেন ৩ বছর ১১ মাস ২৫ দিন, মোট পোষ্ট ২৩২টি, মন্তব্য করেছেন ২৫টি,          



এই ধরনের আরো কিছু পোস্ট.


সিলেট নগরবাসীকে ডাস্টবিনে ময়লা ফেলায় উদ্ধুদ্ধ করতে বিশেষ টিমের কার্যক্রম শুরু

সমকাল সুহৃদ ইমরানের উপর হামলার তিন মাসেও গ্রেফতার হয়নি কোন আসামি!

একটি কল্যাণ রাষ্ট্র বিনির্মাণে গণমাধ্যমের বলিষ্ঠ ভূমিকা জরুরি

নামের কারণে বিনোদন থেকে বঞ্চিত সিলেটের শিশুরা!

সিলেটে ফাইল বন্দি হয়ে আছে রিকশা ভাড়ার তালিকা
 

মন্তব্য সমূহঃ

১. ১৯ নভেম্বর ২০১৫ দুপুর ২:৪৬
রাসে১ বলেছেন: ভালো লাগলো ।


২. ১০ ডিসেম্বর ২০১৫ বিকেল ৫:৪৬
এমরান আহমদ বলেছেন: ধন্যবাদ



মন্তব্য করতে লগিন করুন।

ইমেইল: পাসওয়ার্ড: রেজিস্ট্রেশন করুন