কর আদায়ে বিকল্প পন্থা অবলম্বন জরুরী--মোঃ গালিব মেহেদী খাঁন এর ব্লগ--আপন ভূবন ব্লগ - আপন প্রতিভার সন্ধানে 



প্রথম পাতা » মোঃ গালিব মেহেদী খাঁন এর ব্লগ » কর আদায়ে বিকল্প পন্থা অবলম্বন জরুরী

কর আদায়ে বিকল্প পন্থা অবলম্বন জরুরী

লিখেছেন : মোঃ গালিব মেহেদী খাঁন       ০৪ জুন ২০১৫ রাত ১১:০৬


১টি মন্তব্য   ৫৫৩ বার পড়া হয়েছে



আমরা যতটা নীতিকথা বলি মূলত তার থেকেও বেশি দুর্নীতি করি। আর এ কারণেই যারা আয় কর নিয়ে এত কথা বলেন তারা নিজেরাই সেই আয় করটি নিয়মিত দিচ্ছি না। অথচ সরকারের আয় ব্যয়ের হিসেব মেলাতে এই আয় করের ভূমিকা অনস্বীকার্য।
আমি জানি না এ দেশের বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সমূহের আয় ব্যয়ের বা বাৎসরিক লাভ লোকসানের হিসেব সম্বলিত সঠিক কোন তালিকা আছে কি না।
যদি না থাকে তাহলে ঐ সব প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সঠিক কর আদায়ই বা কি করে সম্ভব? যদিও সোল প্রোপ্রাইটর শিপের ক্ষেত্রে আয়কর গ্রহণে ব্যক্তিগত টিন নাম্বারই ব্যবহৃত হয় সে ক্ষেত্রে ইনকামের হিসেবটা কে করেন? আর কিভাবেই বা করেন?

এর সাথে আরেকটি বিষয় জড়িত তা হল ব্যক্তিগত আয় কর। আমরা যদি জানতে পারি যে, কোন প্রতিষ্ঠান কি পরিমাণ মুনাফা করছে তাহলে ঐ প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মকর্তাদের বেতন বা আয় সম্পর্কেও একটি ধারনা পাওয়া সম্ভব। আর সেখান থেকেই আমরা ধারনা করে নিতে পারতাম এ দেশে কত সংখ্যক লোক আয়কর প্রদানে সক্ষম। আর কত সংখ্যক লোক আয়কর প্রদান করছেন।

যদিও প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের যাত্রার শুরুতে ট্রেড লাইসেন্স, টিন সার্টিফিকেট জাতীয় কিছু কাগজপত্র করতে হয়। কিন্তু পরবর্তীতে আর এ সবের তেমন কোন খোঁজ নেয়া হয় বলে শোনা যায় না। এমনকি ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করেও ট্রেড লাইসেন্স নেয়া যায় বলে জানা যায়। সেক্ষেত্রে পরবর্তীতে এর খোঁজ খবর নেয়ার তোঁ প্রশ্নই ওঠে না।
এ অবস্থায় জনগণকে আয়কর প্রদানে বাধ্য করার কোন বিকল্প আছে বলে মনে হয় না। যেখানে কর্পোরেট ট্যাক্স বা ব্যবসায়ীদের আয়কর প্রদানের চিত্রই এই। সেখানে ব্যক্তি পর্যায়ে আয়কর অতি মাত্রায় নীতিবান ছাড়া যে কেউ দেন না তা বলাই বাহুল্য।

কর আদায় নিশ্চিত করতে এ ক্ষেত্রে সরকার একটি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে তা হল, দেশের প্রতিটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে কর্পোরেট আয়কর প্রদান বাধ্যতামূলক করার সাথে সাথে ঐ সব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মকর্তাবৃন্দের বেতনের অনুকূলে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত আয়কর পরিশোধের দায়ও ঐ প্রতিষ্ঠানকে নিতে হবে। এ মর্মে সরকার একটি নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করুক। বিধান করা হোক উক্ত প্রতিষ্ঠান তার কর্মকর্তাবৃন্দের বেতন থেকে নির্ধারিত অংকের টাকা কেটে রেখে সরকারী কোষাগারে জমা করবেন।
এ দেশে সঠিক ভাবে আয়কর প্রদান নিশ্চিতকরণের এটা একটি ভাল পন্থা হতে পারে।

তবে এ ক্ষেত্রে যদি কোন কর্মকর্তা নিজেই সরকারী কোষাগারে কর জমা করবেন বলে মনে করেন সে ক্ষেত্রে উক্ত প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব হবে কর প্রদান রসিদের অনুলিপি জমা রাখা। যা তাকে আয়কর প্রদানে বাধ্য করবে। শতভাগ না হোক; কর প্রদানে সক্ষম জনগোষ্ঠীর ৫০ শতাংশও যদি সঠিকভাবে কর দিত। এ দেশের চেহারা আমূল বদলে যেত।

kmgmehadi@gmail.com




মোঃ গালিব মেহেদী খাঁন অতি সাধারনের একজন। সাধারন মানুষের কথা বলি।
ব্লগ লিখছেন ৪ বছর ৩ মাস ২১ দিন, মোট পোষ্ট ২৪৯টি, মন্তব্য করেছেন ৮০টি,          



এই ধরনের আরো কিছু পোস্ট.


দায়িত্বপ্রাপ্ত গন দায়িত্বশীল আচরণ করছেন না।

ভালোলাগা আর ভালোবাসা এক নয়

বাবা-মেয়ের আত্মহত্যা এই সমাজ ব্যবস্থার গালে সজোরে চপেটাঘাত

মন্ত্রী হিসেবে শাহজাহান খানের মন্ত্রীসভায় থাকার নৈতিক অধিকার নেই, থাকতে পারে না।

মন্ত্রী মহোদয় মানুন আর নাই মানুন। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা মোটেই মান সম্পন্ন নয়।
 

মন্তব্য সমূহঃ

১. ০৮ জুন ২০১৫ রাত ১০:১৪
নূর মোহাম্মদ নূরু বলেছেন: আয়কর দেয়ার মত আয় যে নাগরিকের আছে তিনি রাষ্ট্রকে দেয় কর পরিশোধ করবেন স্বেচ্ছায়, আইনগত বাধ্যবাধকতা পালন করে, নাগরিক দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে। তবে তিনি যদি তা পরিশোধে গড়িমসি করেন, এড়িয়ে চলেন, অসাধু পন্থা অবলম্বন করেন তাহলে আইনের আওতায় রাষ্ট্রের প্রাপ্য উদ্ধারে রাষ্ট্র প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারেন। কেননা কেউ কর ফাঁকি দিলে তা উদ্ধারে ব্যর্থতার দায়ভাগ আহরণকারীর এ জন্য যে তাদের এ অপারগতায় সমাজে ন্যায়-অন্যায়, বৈধ-অবৈধ অসম অবস্থানে চলে যাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে, রাজস্ব আহরণের ক্ষেত্রে তো বটেই, সমাজে সম্পদের অর্জন বণ্টনে বৈষম্য সৃজিত হতে পারে এর ফলে সমাজ ও অর্থনীতিতে ভারসাম্য বিনষ্ট হতে পারে। তাই আয়কর আহরণে চাই স্থিতিশীল উদ্যোগ।

ধন্যবাদ গালিব ভাই, সময়োপযোগী সুন্দর উপস্থাপনার জন্য



মন্তব্য করতে লগিন করুন।

ইমেইল: পাসওয়ার্ড: রেজিস্ট্রেশন করুন