ইসলামের প্রথম খলিফা হযরত আবুবকর সিদ্দিক (রঃ) ১৩৮১তম মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁর রুহের মাগফেরাত কামনায়--নূর মোহাম্মদ নূরু এর ব্লগ--আপন ভূবন ব্লগ - আপন প্রতিভার সন্ধানে 



প্রথম পাতা » নূর মোহাম্মদ নূরু এর ব্লগ » ইসলামের প্রথম খলিফা হযরত আবুবকর সিদ্দিক (রঃ) ১৩৮১তম মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁর রুহের মাগফেরাত কামনায়

ইসলামের প্রথম খলিফা হযরত আবুবকর সিদ্দিক (রঃ) ১৩৮১তম মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁর রুহের মাগফেরাত কামনায়

লিখেছেন : নূর মোহাম্মদ নূরু       ২৩ আগস্ট ২০১৫ সন্ধ্যা ৭:৫১


০টি মন্তব্য   ১৭২ বার পড়া হয়েছে



মুসলিম জাহানের প্রথম খলিফা এবং ইসলাম ধর্ম গ্রহণকারী তৃতীয় ব্যক্তি হযরত আবুবকর সিদ্দিক (রাঃ)। নবীদের পর উম্মতকুলে সাহাবায়ে কেরামের মর্যাদা সর্বোচ্চ বলেই বিবেচিত হয়। আর সেই সাহাবিদের মধ্যে যাঁর নাম অগ্রগণ্য, তিনি হজরত আবু বকর সিদ্দিক (রাঃ)। তিনি ছিলেন একাধারে হযরত মোহাম্মদ (সঃ) এর শ্বশুর, তাঁর হিজরতের সংগী এবং তাঁর বয়োজোষ্ঠ্য সাহাবাদের মধ্যে অন্যতম। তাঁর বাল্য নাম আবদুল্লাহ ও ডাকনাম আবু বকর। সিদ্দিক হচ্ছে তাঁর উপাধি। মিরাজের ঘটনাকে সর্বপ্রথম মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেছিলেন বলেই রাসুল (সাঃ) তাঁকে এই উপাধিতে ভূষিত করেন। হযরত আবু বকর (রাঃ) ছিলেন রাসুলুল্লাহ্ (সাঃ)-এর প্রত্যক্ষ সঙ্গী, রাসুলুল্লাহ্ (সাঃ) ও উম্মতের মাঝে সেতুবন্ধ রচনাকারী, কোরআনের নির্দেশ পালনে তিনি ছিলেন উন্মুখ। হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) এর মৃত্যুর পর পর্যায়ক্রমে হযরত আবুবকর সিদ্দিক (রাঃ) হযরত ওমর (রাঃ) হযরত ওসমান (রাঃ) ও হযরত আলী (রাঃ) পবিত্র কুরআন ও হাদিসের আলোকে মুসলিম বিশ্বের শাসনকার্য পরিচালনা করেন বলে মুসলিম ইতিহাসে তাদের বলা হয় খোলাফায়ে রাশেদিন। সুন্নী বিশ্বাসমতে হযরত আবুবকর সিদ্দিক (রাঃ) ছিলেন খোলাফায়ে রাশীদুন (অর্থাৎ সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত) এর একজন খলীফা। ৬৩৪ খৃষ্টাব্দের ২৩ আগস্ট মোতাবেক ১৩ হিজরির ২২ জমাদিউস সানি মঙ্গলবার দিবাগত রাতে ৬২ বছর বয়সে মহামান্য এই সাহাবি পরলোক গমন করেন। আজ তাঁর ১৩৮১তম মৃত্যুবার্ষিকী। ইসলামের প্রথম খলিফা হযরত আবুবকর সিদ্দিক (রঃ) ওফাত দিবসে তার রুহের মাগফেরাত কামনা করছি।

হজরত আবু বকর সিদ্দিক (রাঃ) ৫৭৩ খ্রিষ্টাব্দে মক্কার বিখ্যাত কোরাইশ বংশের বনু তাইম গোত্রে জন্মগ্রহণ করেন। ইসলামের নবী হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) জন্মের মাত্র দুই বছরের কিছু বেশী সময় পর হযরত আবু বকর জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পুর্ন নাম আবু বকর আস সিদ্দিক আব্দুল্লাহ ইবন আবী কুহাফা উছমান আত তাইমী আল কুরাইশী এবং ডাক নাম আবদুল্লাহ। তার বাবা উসমানের কুনিয়া ছিল আবু কুহাফা। এজন্য আবু বকরকে আবদুল্লাহ ইবন আবী কুহাফাও বলা হয়ে থাকে। ইসলামী জীবনচরিতে তার নাম আবু বকর সিদ্দিকী বলা হয়। মহানবী (সাঃ) -এর নবুয়্যত লাভের পর বয়স্ক পুরুষদের মধ্যে আবু বকরই সর্বপ্রত্থম ইসলাম গ্রহন করেন। জীবনের প্রতিটি স্তরে তিনি ইসলামের বিধিবিধান অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলতেন। ইসলামের সূচনা পর্ব থেকে আমৃত্যু তিনি মহানবী (সাঃ) কে ছায়ার মত অনুসরন করতেন এবং নবীজীও ইসলামের জন্য নিজের যথা সর্বস্ব কুরবানী দিয়েছেন। মহানবী (সাঃ) এর প্রতিটি বাণী তিনি বিনা যুক্তিতে সত্য বলে মেনে নিতেন তাই নবী মুহাম্মদ (সঃ) তাকে আস-সিদ্দীক উপাধিটি দিয়েছিলেন। তাঁর অন্য উপাধি ছিল আতিক বা আতিকুল্লাহ মিনান্‌ নার।

হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রাঃ) ছিলেন অত্যন্ত দয়ালু ও সত্যনিষ্ঠ। সত্য ও ন্যায়ের ঝাণ্ডা পৃথিবীর জমিনে প্রতিষ্ঠা করার জন্য তাঁর যথাসর্বস্ব ত্যাগের মহিমা বিরল। প্রথম জীবনে কুরাইশদের মধ্যে তিনি অত্যন্ত সম্মানিত ব্যক্তি ছিলেন। তার জ্ঞান, মেধা, বুদ্ধি এবং সৎ চরিত্রের জন্য সবাই তাকে শ্রদ্ধা করত। তা ছাড়া মানুষের দুঃখ-দুর্দশায়, সহায়-সম্বলহীনতায় এবং দুস্থদের সাহায্যার্থে তিনি ছিলেন আত্মনিবেদিত। হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রাঃ) সব সময়ই রাসুলুল্লাহ্ (সাঃ) কে ছায়ার মতো অনুসরণ করতেন। বদরের যুদ্ধে আবুবকর (রাঃ) সরাসরি অংশ নেন এবং নবীজীর খেদমতে প্রতি মুহুর্তে নিজেকে নিয়োজিত করেন। হুজুর (সাঃ) এরশাদ করেন, 'আমার উম্মতের মাঝে আবু বকরই বেশি দয়ালু।' নবী করিম (সাঃ) আরো বলেন, 'বন্ধুত্ব ও সাহায্য আবু বকরই আমাকে বেশি করেছিলেন। ইহজগতে যদি আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করতাম তাহলে আবু বকরকেই করতাম।' তিনি আরো বলেনঃ দুনিয়ায় এমন কোনো ব্যক্তির ওপর সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত হয়নি, যে পয়গম্বরদের পর হজরত আবু বকর থেকে উত্তম ও শ্রেষ্ঠ (রূহুল বয়ান)।

ইসলামের প্রচার ও প্রসারে আবুবকর (রাঃ)-এর অবদান মহাপ্রলয়ের আগ পর্যন্ত উজ্জ্বল হয়ে থাকবে। ইসলামের প্রতি হযরত আবু বকরের (রাঃ) অপরিসীম অবদানের জন্য তাঁকে 'ইসলামের ত্রাণকর্তা' বলা হয়। এ অবদানের স্বীকৃতির ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেন, 'দুনিয়াতে আমি প্রত্যেক মানুষের এহসানের পরিপূর্ণ বদলা আদায় করেছি কিন্তু সিদ্দিকে আকবরের ত্যাগের প্রতিদান আদায় করতে পারিনি। হাশরের ময়দানে স্বয়ং রাব্বুল আলামিন তাঁকে ওই প্রতিদান দান করবেন।' খলিফা পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার পরই তিনি সমবেত জনতার উদ্দেশে বলেন, 'আমি যত দিন আল্লাহ এবং আল্লাহর রাসুলের নির্দেশিত পথে চলি, তত দিন তোমরা আমাকে অনুসরণ করবে এবং আমাকে সাহায্য করবে। আর ভুল পথে চললে তোমরা আমাকে সঙ্গে সঙ্গে সংশোধন করে দেবে। তোমাদের মধ্যে যারা দুর্বল, তাদের হক আদায় না করা পর্যন্ত তারা আমার কাছে সবল ও শক্তিশালী। আর যারা সবল, তাদের কাছ থেকে হকদারের হক আদায় না করা পর্যন্ত তারা আমার কাছে দুর্বল।' সিদ্দিকে আকবর (রাঃ) প্রদত্ত এ ভাষণ দুনিয়ার সর্বকালের শাসকদের জন্য অনুপম আদর্শ। তাঁর জীবনের প্রতিটি ঘটনা, কাজ ও বাণী আমাদের ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় জীবন পর্যন্ত অনুকরণীয় ও অনুসরণীয়।

৬৩৪ খ্রিষ্টাব্দের ২৩ আগস্ট মোতাবেক ১৩ হিজরির ২২ জমাদিউস সানি মঙ্গলবার দিবাগত রাতে ৬২ বছর বয়সে মহামান্য এই সাহাবি ওফাত লাভ করেন। রাসুলুল্লাহ্ (সাঃ)-এর রওজা মুবারকের পাশেই তাঁকে দাফন করা হয়। আজ মুসলিম জাহানের প্রথম খলিফা হযরত আবুবকর সিদ্দিক (রাঃ) ১৩৮১তম ওফাত দিবস। মহান আল্লাহ্ পাক আমাদেরকে হুজুর (সাঃ) এর এই প্রিয় সাহাবির আদর্শ মেনে চলার তৌফিক দান করুন। আমিন। ইসলামের প্রথম খলিফা হযরত আবুবকর সিদ্দিক (রঃ) ওফাত দিবসে মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে তার রুহের মাগফেরাত কামনা করছি।




ব্লগ লিখছেন ৪ বছর ৫ মাস ২৫ দিন, মোট পোষ্ট ৭০৭টি, মন্তব্য করেছেন ১২৮টি,          



এই ধরনের আরো কিছু পোস্ট.


ধর্ম নয় স্বার্থ সহিংসতার জন্য দায়ী

সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে সংগঠিত হওয়ার এটাই সময়

প্রসঙ্গ: জঙ্গিবাদ বিরোধী ফতোয়া

ধার্মিক বা মুক্তমনা যাই হতে চান আগে একজন উন্নত মানুষ হন

ধর্মের নামে অসহায় মানুষগুলোর সাথে এ যেন নির্মম উপহাস।
 

মন্তব্য সমূহঃ

মন্তব্য করতে লগিন করুন।

ইমেইল: পাসওয়ার্ড: রেজিস্ট্রেশন করুন