আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পিছিয়ে পড়ছে কেন ?--আবু সাঈদ চৌধুরী এর ব্লগ--আপন ভূবন ব্লগ - আপন প্রতিভার সন্ধানে 



প্রথম পাতা » আবু সাঈদ চৌধুরী এর ব্লগ » আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পিছিয়ে পড়ছে কেন ?

আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পিছিয়ে পড়ছে কেন ?

লিখেছেন : আবু সাঈদ চৌধুরী       ২৩ নভেম্বর ২০১৫ রাত ১০:১৮


১টি মন্তব্য   ৪৬০ বার পড়া হয়েছে


শিক্ষা যখন সারা বিশ্বের সকল উন্নতির প্রধান নিয়ামক হয়ে দাঁড়াচ্ছে ঠিক তখনই আমাদের দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে দিন দিনই উদ্বেগ বেড়েই চলছে । একেবারে প্রাথমিক শিক্ষা থেকে শুরু করে উচ্চ শিক্ষা সব ক্ষেত্রেই শিক্ষার মধ্যে একধরনের হতাশা পরিলক্ষিত । এই হতাশার প্রধান দিকটি হচ্ছে শিক্ষার মান । স্বাক্ষরতার হার বাড়ার সাথে সাথে উচ্চ শিক্ষার প্রসারও হয়েছে অনেক । প্রাথমিক বিদ্যালয় যেমনিভাবে সরকারিভাবে বেড়েছে তেমনি বেড়েছে কিন্ডার গার্টেন সহ বিভিন্ন ধরনের শিক্ষা ব্যবস্থা এবং এর সাথে গড়ে উঠছে উচ্চ শিক্ষার জন্য প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ও ।কারিগড়ি মহাবিদ্যালয়ও কম নয় । সরকারি বিশ্ববিদ্যায়ের সাথে পাবলিক বিশ্ববিদ্যায়য়ের সংখ্যাও বেড়েছে গত কয়েক বছরে উল্লেখ করার মত ।
এত কিছুর পরও শিক্ষা ক্ষেত্রে এক ধরনের না পাওয়া থেকেই যাচ্ছে । কোন দিক দিয়ে যেন শ্লথ হয়ে পড়ছে আমাদের দেশের উচ্চশিক্ষার গতি!
সারা বিশ্ব যখন গবেষনা ধর্মী কারিগড়ি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলায় আগ্রহী হচ্ছে ঠিক তখন আমরা আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা এখনও ইতিহাস নির্ভর আর পাঠ্য বই মুখস্থ নির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা দিয়েই বিশ্বের সাথে হাঁটতে চাইছি !আর এখানেই যত সমস্যা পরিলক্ষিত ।উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে আমরা যে পথে চলছি তাতে যে ভুল ত্রুটিগুলো রয়েছে তা যদি এখনও সনাক্ত না করা যায় তবে বরাবরের মতই সারা বিশ্বের সাথে আমাদের শিক্ষার মান মিলিয়ে আমরা চলতে ব্যর্থ্য হতেই থাকবো । বর্তমানে ঘোষিত র্যাংকিং অনুযায়ী সারা বিশ্বের শ্রেষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর চেয়ে আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অনেক পেছেনে যেটা সত্যিই প্রশ্নের সম্মুক্ষীন করে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাকে । যদি এ পিছিয়ে থাকার কারন হিসাবে আমরা কয়েকটি উল্লেখযোগ্য কারণ দাঁড় করতে চাই তবে আমার দৃষ্টিতে নিম্নক্ত কারণগুলো আসতে পারে ।
1) গবেষনাধর্মী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কম থাকা বা যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গবেষনা করার সকল অবকাঠামো থাকার পরও গবেষনায় সঠিক দিক নির্দেশনা না পাওয়া বা সঠিক ইন্সট্রুমেন্টের অভাব ।
2) গতানুগতিক মুখস্থ নির্ভর কিছু বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকা ।
3) মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চ শিক্ষার জন্য দেশ ত্যাগ ।
4) শিক্ষকদের সঠিকভাবে গবেষনার সুযোগ সৃষ্টি করতে না পারা ।
5) রাজনৈতিক অস্থীতিশীলতা
6) সেশন জট
7) বিজ্ঞান ভিত্তিক শিক্ষার অপ্রসারনশীলতা
8) বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে বিদেশী শিক্ষার্থীদের গবেষনা করার ক্ষেত্র কম থাকা ।

এর বাইরেও আরও কারন অবশ্যই আছে তবে সেগুলোর চেয়েও বড় হচ্ছে প্রতিকুলতার মাঝেও আমাদের শিক্ষার্থীরা তাদের মেধা দিয়ে প্রতিনিয়তই বিশ্বের মধ্যে তাদের মেধার সঠিক স্বীকৃতি রাখতে পারছে কিন্তু তাতেও আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কোন সুফল পাচ্ছেনা । দেশে বসেও কোন নতুন আবিস্কারের কল্পনা করলে তা বাস্তবে রুপদানের জন্য শিক্ষার্থীকে চলে যেতে হচ্ছে দেশের বাইরে যা কিনা দেশের সুনামকে অন্য দেশের সুনামে পরিনত করছে ।
পাশ্চাত্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ও তার সুনাম ধরে রাখতে পারছেনা অথচ এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাই অন্য দেশে গিয়ে তাদের মেধা বিকাশের স্বাক্ষর রেখে চলছে সবসময় । কিন্তু এই ক্ষেত্রটা যদি আমরা আমাদের দেশে তৈরী করে দিতে পারি তবে কি আমরা শ্রেষ্ঠত্বে আসতে পারিনা । গবেষনা বিজ্ঞানের বাইরেও হতে পারে । সাংবাদিকতা, সমাজের পরিবেশ পরিবর্তনের প্রভাব, পরিবেশ বিপর্যয়, আইন কাঠামো বিষয়ক গবেষনাও হতে পারে বিশ্বে নিজেদের চেনানোর মাধ্যম ।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এখনও আমাদের দেশে অবহেলিত একটা প্রতিষ্ঠান । অথচ একটি নির্ভরযোগ্য এবং গবেষনা ধর্মী প্রতিষ্ঠান হিসাবে গড়ে তোলা যেত এই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও । কারণ দেশের প্রান্তীয় অঞ্চলেও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজগুলো রয়েছে । নতুন করে প্রতিষ্ঠান নির্মান না করে এই কলেজগুলোকে গবেষনার জন্য কাজে লাগানো যেতে পারে অনায়াসেই এতে করে মেধাবীরা যেমনি তাদের মেধা বিকাশের জন্য পেত সুন্দর সুযোগ তেমনি প্রসারিত হত উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থার দাঁড় ।
ভাবনার যে একটা প্রসারণশীলতা রয়েছে তা বিস্তৃত করা খুব বেশী প্রয়োজন । আমাদের মানণীয় প্রধান মন্ত্রি পরিবেশ বিষয়ক সর্ব্বোচ্চ পুরুস্কার “চ্যাম্পিয়ন্স অব দ্য আর্থ”পুরুষ্কারে ভুষিত হলেন তার জন্যতো তিনি কাজ করেছেন এদেশে থেকেই । যদিও সব ক্ষেত্রে আমাদের দেশে পরিবেশ বিষয়ক সফলতা আসেনি তবু্ও এ পুরুস্কার ভবিষ্যতে আমাদের পরিবেশ বিষয়ক সচেতনতায় গ্রহনযোগ্য ভূমিকা পালন করবে ।
তেমনিভাবে উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে বিশ্বের সব নামিদামী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সাথে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে একই সারিতে আনতে কাজ করতে হবে এখন থেকেই । রাজনৈতিক অস্থিরতা দূর করার পাশাপাশি সেশন জট মুক্ত প্রতিষ্ঠান এবং গবেষনার জন্য উন্মুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করে বিদেশী ছাত্রছাত্রীদের গবেষনায় সম্পৃক্ত করে নিজেদের মেধা বিকাসের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মান সম্পন্ন বিশ্ববিদ্যালয় আমরাও পেতে পারি । সাহিত্যে আমাদের যে ঐতিয্য রয়েছে তাতেও শ্রেষ্ঠত্ব আসতে পারে তবে তার জন্যও প্রয়োজন গবেষনার উন্মুক্ত মাধ্যম সৃষ্টি ।
আন্তর্জাতিকভাবে উচ্চশিক্ষায় পিছিয়ে পড়লে কোনভাবেই একসময় তাল মেলানো যাবেনা উন্নত বিশ্বের গতিশীলতার সাথে । এখনই ব্যবস্থা নিতে হবে এই সমস্যা উত্তরনের যার সুফল পাবে আমাদের আগত ভবিষ্যৎ ।আমরা চাই গতিশীল বিজ্ঞান সম্মত আধুনিক স্বনির্ভর বাংলাদেশ যা তৈরী করতে শিক্ষাকেই প্রধান সোপান হিসাবে ব্যবহার করতে হবে ।
সাঈদ চৌধুরী




ব্লগ লিখছেন ৪ বছর ৫ মাস ২৯ দিন, মোট পোষ্ট ১৪৪টি, মন্তব্য করেছেন ৫২টি,          



এই ধরনের আরো কিছু পোস্ট.


তারা সবার সুখে হাসব মোরা কাঁদব সবার দুখে......আবৃত্তি করতে করতে গৃহ কর্মিকে পেটায়!

শিক্ষাই যখন অভিশপ্ত

একদিকে প্রশ্ন ফাঁস অন্যদিকে মেধাবীদের গলায় ফাঁস !

মানুষ হওয়ার জন্য শিক্ষা!

ঘরে থেকেই সন্তানের কলেজে আসা-যাওয়ার তথ্য পাবেন অভিভাবকরা!
 

মন্তব্য সমূহঃ

১. ০২ জানুয়ারী ২০১৬ রাত ৮:৫২
মজিবুর রহমান বলেছেন: গুরুত্বপূর্ণ লেখা। বেশ সুন্দর করে তুলে ধরেছেন।
কিন্তু কে শোনে কার কথা। পলিসি মেকার - মহারথীরা নিজেদের ইচ্ছামত যা খুশী করেন।
তারা অন্য কারো মতের তোয়াক্কা করেন না। তাই তো এই অবস্থা!



মন্তব্য করতে লগিন করুন।

ইমেইল: পাসওয়ার্ড: রেজিস্ট্রেশন করুন